শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অর্থ ও বাণিজ্য আকুর বিল মিটিয়ে ২৯.৯৮ বিলিয়ন ডলারে রিজার্ভ

আকুর বিল মিটিয়ে ২৯.৯৮ বিলিয়ন ডলারে রিজার্ভ

অর্থনীতি ডেস্ক: এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের বা আকুর দ্বিমাসিক আমদানি বিল পরিশোধের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন আবার ত্রিশ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বা আইএমএফের বিপিএম-৬ মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ এখন কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে গত সপ্তাহে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে অবস্থান করছিল। মূলত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের জন্য ১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারের আমদানি দেনা চুকানোর ফলে এই পতন ঘটে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আকুর বিল পরিশোধের পর মোট বা গ্রস হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে জুলাই-আগস্ট এবং মে-জুন মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের সময়ও রিজার্ভ অনুরূপভাবে কমেছিল। তবে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত বাজেট সহায়তা এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ওপর ভর করে এর আগে রিজার্ভ কিছুটা ইতিবাচক ধারায় ফিরেছিল। আকু হলো মূলত নয়টি দেশের একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে প্রতি দুই মাস অন্তর আমদানি-রপ্তানির দেনা-পাওনা পরিশোধ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, প্রতিবারের মতো এবারও আকুর দেনা পরিশোধের পর সঞ্চয়ন সামান্য হ্রাস পেয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স এবং রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় খুব শীঘ্রই রিজার্ভ আবার বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানের এই ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারের তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে দেশের প্রায় সাড়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী যেকোনো দেশের কাছে ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি খরচের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা জমা থাকা জরুরি।

উল্লেখ্য, অতীতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল। পরবর্তীতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং ইউক্রেন সংকটের প্রভাবে দেশের আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। বর্তমান অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসী আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এই প্রধান দুই উৎস তথা রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্সের ওপর ভর করেই মূলত দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

খুঁজুন