জুলাই আন্দোলন ছিল পরিকল্পিতভাবে বিদেশি শক্তির ইন্ধনে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানোর একটি প্রক্রিয়া। তখন আন্দোলনের সময় যেসব কর্মকাণ্ড হয়েছে, এখন যদি সেরকম অগ্নিসন্ত্রাস, গুপ্তহত্যা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তাহলে সরকার ও সরকারি বাহিনীর দৃষ্টিতে সেগুলো হবে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। তৎকালীন সরকারও তখন এমনটাই বলেছিল।
সরকার পতনের পর বিদেশি শক্তির ছত্রচ্ছায়ায় যারা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়েছিল, হত্যা, খুন, পুলিশ হত্যা, থানায় আগুন দেওয়া, সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদেরকে জুলাই যোদ্ধার খেতাব দিয়ে অপরাধের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এসব অপরাধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের ওপর চাপিয়ে দিয়ে মামলা করা হয়েছে এবং অনেককে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন, তাদের বিরুদ্ধেও আইন তার নিজস্ব নিরপেক্ষতা হারিয়ে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার শুরু করেছে। এমনকি মিথ্যাকে সত্য প্রমাণ করতে মনগড়া কাহিনি সাজিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আইনও বদলে গেছে; সবার জন্য আইন সমান নয়। জঙ্গিদের জামিন দেওয়া হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের দণ্ড মওকুফ করে খালাস দেওয়া হয়েছে।
জুলাই আন্দোলন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যারা স্বাধীনতাবিরোধী এবং তাদের দোসর, তারাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে পরাজিত করেছে। আজ অনেকে বলে দেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো, আওয়ামী লীগ তথা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিদেশি ষড়যন্ত্র ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার সরকার পরিবর্তনের পর এ দেশে জঙ্গি উত্থান হয়েছে। বেড়েছে হত্যা, খুন ও ধর্ষণের ঘটনা। কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে, কর্মসংস্থান কমেছে, মানুষের আয় সীমিত হয়ে গেছে এবং মাথাপিছু আয়ও কমে গেছে। মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচের দিকে চলে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতি করুণ অবস্থায় রয়েছে। চারদিকে দুর্নীতি, নিয়ম লঙ্ঘন, লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং সরকারের স্বজনপ্রীতির অভিযোগ দেখা যাচ্ছে।
২০২৪ সালের আগে পরিকল্পিতভাবে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে কৌশলে সরকারবিরোধী অবস্থান তৈরি করা হয়েছিল। দেশবিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলোকেও ব্যবহার করে শক্তি প্রদর্শনের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
বর্তমান সময়ে মানুষ ২০২৪ সালের আন্দোলন নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু করেছে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের আস্ফালন দেখে জনগণ আজ ক্ষুব্ধ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও, এ দেশের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়েছে।
মানুষ এখন তা অনুভব করতে শুরু করেছে। আন্দোলনকারীদের বিচার হয়নি, জঙ্গিদেরও বিচার হয়নি। ফলে মানুষ আবার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবারের আন্দোলন হবে দেশ বাঁচানোর আন্দোলন, স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন এবং জঙ্গিবাদ দমনের আন্দোলন।
জুলাই আন্দোলন : দুই বছরের বাস্তবতা
জুলাই আন্দোলন : দুই বছরের বাস্তবতা
জুলাই আন্দোলন ছিল পরিকল্পিতভাবে বিদেশি শক্তির ইন্ধনে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানোর একটি প্রক্রিয়া। তখন আন্দোলনের সময় যেসব কর্মকাণ্ড হয়েছে, এখন যদি সেরকম অগ্নিসন্ত্রাস, গুপ্তহত্যা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তাহলে সরকার ও সরকারি বাহিনীর দৃষ্টিতে সেগুলো হবে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। তৎকালীন সরকারও তখন এমনটাই বলেছিল। সরকার পতনের পর বিদেশি শক্তির ছত্রচ্ছায়ায় যারা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়েছিল, হত্যা, খুন, পুলিশ হত্যা, থানায় আগুন দেওয়া, সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদেরকে জুলাই যোদ্ধার খেতাব দিয়ে অপরাধের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, এসব অপরাধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের ওপর চাপিয়ে দিয়ে মামলা করা হয়েছে এবং অনেককে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন, তাদের বিরুদ্ধেও আইন তার নিজস্ব নিরপেক্ষতা
হারিয়ে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার শুরু করেছে। এমনকি মিথ্যাকে সত্য প্রমাণ করতে মনগড়া কাহিনি সাজিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে।আইনও বদলে গেছে; সবার জন্য আইন সমান নয়। জঙ্গিদের জামিন দেওয়া হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের দণ্ড মওকুফ করে খালাস দেওয়া হয়েছে। জুলাই আন্দোলন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যারা স্বাধীনতাবিরোধী এবং তাদের দোসর, তারাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে পরাজিত করেছে। আজ অনেকে বলে দেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো, আওয়ামী লীগ তথা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিদেশি ষড়যন্ত্র ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার পরিবর্তনের পর এ দেশে জঙ্গি উত্থান হয়েছে। বেড়েছে হত্যা, খুন ও ধর্ষণের ঘটনা। কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে, কর্মসংস্থান কমেছে, মানুষের আয় সীমিত হয়ে গেছে এবং মাথাপিছু আয়ও কমে গেছে। মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচের দিকে চলে যাচ্ছে।
দেশের অর্থনীতি করুণ অবস্থায় রয়েছে। চারদিকে দুর্নীতি, নিয়ম লঙ্ঘন, লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং সরকারের স্বজনপ্রীতির অভিযোগ দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের আগে পরিকল্পিতভাবে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে কৌশলে সরকারবিরোধী অবস্থান তৈরি করা হয়েছিল। দেশবিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলোকেও ব্যবহার করে শক্তি প্রদর্শনের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল।বর্তমান সময়ে মানুষ ২০২৪ সালের আন্দোলন নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু করেছে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের আস্ফালন দেখে জনগণ আজ ক্ষুব্ধ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও, এ দেশের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়েছে।মানুষ এখন তা অনুভব করতে শুরু করেছে। আন্দোলনকারীদের বিচার হয়নি, জঙ্গিদেরও বিচার হয়নি। ফলে মানুষ আবার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবারের আন্দোলন হবে দেশ বাঁচানোর আন্দোলন, স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন এবং জঙ্গিবাদ দমনের আন্দোলন।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
গ্রীন রোড, পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত