কেনিয়ার একটি বধিরদের স্কুলে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে ইশারায় কথা বলছিল। সেখানে একটি দল দেখাচ্ছিল, কীভাবে একটি রোবটিক হাত তাদের পড়াশোনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
শ্রবণ প্রতিবন্ধি শিশুদের শিক্ষাজীবনের নানা সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করছে কেনিয়ার স্টার্টআপ জিরোবায়োনিক। ২২ বছর বয়সী নোরাহ কিমাথি প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা।
প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি যান্ত্রিক হাত তৈরি করেছে, যা শিক্ষকের কথা তাৎক্ষণিকভাবে ইশারা ভাষায় অনুবাদ করতে পারে। এর ফলে বধির শিশুরা শ্রবণক্ষম শিশুদের সঙ্গে একই শ্রেণিতে পড়াশোনা করতে পারবে।
কেনিয়া সোসাইটি ফর ডেফ চিলড্রেনের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে প্রায় ৩ লাখ শিশুর শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা রয়েছে। তবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্কুলে ভর্তি হয়েছে মাত্র ২০ হাজার শিশু।
নাইরোবির কাসারানি ট্রিসাইড সেকেন্ডারি স্কুল ফর দ্য ডেফ-এর শিক্ষার্থীদের কাছে প্রযুক্তিটির আরও একটি দিক বেশি আশাব্যঞ্জক।
রোবটিক হাতগুলো বধির শিক্ষকদের দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। একটি বিশেষ বডিস্যুটের মাধ্যমে তারা ইশারা ভাষা রেকর্ড ও সংরক্ষণ করছেন। এ কাজে জিরোবায়োনিক বডিস্যুটটি আমদানি করেছে।
এভাবে তারা বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরিভাষার একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করছেন। এতে ইংরেজি, আমেরিকান ও কেনিয়ান ইশারা ভাষার ব্যবহার করা হচ্ছে। এই তথ্যভাণ্ডার ইশারা ভাষার পরিধি বাড়াতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে বধির শিশুদের শেখা ও যোগাযোগ আরও সহজ হচ্ছে।
নাইরোবিতে জিরোবায়োনিকের ছোট্ট গবেষণাগারে এএফপিকে কিমাথি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, আফ্রিকায় প্রমিত আফ্রিকান ইশারা ভাষার কোনো তথ্যভাণ্ডার নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘মহাদেশটিতে আর কেউ এটি তৈরি করেনি। আমাদের শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে।’
কেনিয়ার অনেক বধির শিশু বিভিন্ন ধরণের স্থানীয় ও তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি ইশারা ব্যবহার করে। স্থানীয় ইশারা ভাষায় গণিত ও জীববিজ্ঞানের মতো বিষয় পড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অনেক প্রযুক্তিগত পরিভাষা নেই।
বধিরদের ওই স্কুলের ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শ্যারন মুম্বে বলেন, এই প্রযুক্তি তাকে ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী’ করেছে।
সে এএফপিকে বলেছে, ‘আমি বিভিন্ন বিষয় আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব।’
গবেষণাগারে কিমাথির দলটি তাদের তৈরি মানবসদৃশ রোবট ‘আফ্রিকা ওয়ান’-এর সঙ্গে কাজ করছে।
প্রতিটি হাত তৈরিতে প্রায় ৩৫০ ডলার খরচ হয়। এগুলো দুই বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। ইতোমধ্যেই কেনিয়ার ৭৮টি স্কুলে এসব রোবটিক হাত ব্যবহার করা হচ্ছে।
এসব রোবটিক হাত কথা থেকে ইশারা ভাষায় অনুবাদে ৯২ শতাংশ নির্ভুলতা দেখাচ্ছে।
কিমাথি বলেন, এই ফলাফল গবেষণাগারে দীর্ঘ সময় কাজের পরিশ্রমকে সার্থক করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, আমরা অন্য কারও মুখে হাসি ফোটাতে যাচ্ছি।’
কেনিয়ায় বধির শিশুদের জন্য কথা অনুবাদকারী রোবটিক হাত
কেনিয়ায় বধির শিশুদের জন্য কথা অনুবাদকারী রোবটিক হাত
কেনিয়ার একটি বধিরদের স্কুলে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে ইশারায় কথা বলছিল। সেখানে একটি দল দেখাচ্ছিল, কীভাবে একটি রোবটিক হাত তাদের পড়াশোনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। শ্রবণ প্রতিবন্ধি শিশুদের শিক্ষাজীবনের নানা সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করছে কেনিয়ার স্টার্টআপ জিরোবায়োনিক। ২২ বছর বয়সী নোরাহ কিমাথি প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা। প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি যান্ত্রিক হাত তৈরি করেছে, যা শিক্ষকের কথা তাৎক্ষণিকভাবে ইশারা ভাষায় অনুবাদ করতে পারে। এর ফলে বধির শিশুরা শ্রবণক্ষম শিশুদের সঙ্গে একই শ্রেণিতে পড়াশোনা করতে পারবে। কেনিয়া সোসাইটি ফর ডেফ চিলড্রেনের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে প্রায় ৩ লাখ শিশুর শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা রয়েছে। তবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্কুলে ভর্তি হয়েছে মাত্র ২০ হাজার শিশু। নাইরোবির কাসারানি ট্রিসাইড সেকেন্ডারি স্কুল ফর দ্য ডেফ-এর শিক্ষার্থীদের কাছে প্রযুক্তিটির আরও একটি দিক বেশি
আশাব্যঞ্জক। রোবটিক হাতগুলো বধির শিক্ষকদের দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। একটি বিশেষ বডিস্যুটের মাধ্যমে তারা ইশারা ভাষা রেকর্ড ও সংরক্ষণ করছেন। এ কাজে জিরোবায়োনিক বডিস্যুটটি আমদানি করেছে। এভাবে তারা বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরিভাষার একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করছেন। এতে ইংরেজি, আমেরিকান ও কেনিয়ান ইশারা ভাষার ব্যবহার করা হচ্ছে। এই তথ্যভাণ্ডার ইশারা ভাষার পরিধি বাড়াতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে বধির শিশুদের শেখা ও যোগাযোগ আরও সহজ হচ্ছে। নাইরোবিতে জিরোবায়োনিকের ছোট্ট গবেষণাগারে এএফপিকে কিমাথি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, আফ্রিকায় প্রমিত আফ্রিকান ইশারা ভাষার কোনো তথ্যভাণ্ডার নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘মহাদেশটিতে আর কেউ এটি তৈরি করেনি। আমাদের শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে।’ কেনিয়ার অনেক বধির শিশু বিভিন্ন ধরণের স্থানীয় ও তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি ইশারা ব্যবহার করে। স্থানীয় ইশারা ভাষায়
গণিত ও জীববিজ্ঞানের মতো বিষয় পড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অনেক প্রযুক্তিগত পরিভাষা নেই। বধিরদের ওই স্কুলের ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শ্যারন মুম্বে বলেন, এই প্রযুক্তি তাকে ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী’ করেছে। সে এএফপিকে বলেছে, ‘আমি বিভিন্ন বিষয় আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব।’ গবেষণাগারে কিমাথির দলটি তাদের তৈরি মানবসদৃশ রোবট ‘আফ্রিকা ওয়ান’-এর সঙ্গে কাজ করছে। প্রতিটি হাত তৈরিতে প্রায় ৩৫০ ডলার খরচ হয়। এগুলো দুই বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। ইতোমধ্যেই কেনিয়ার ৭৮টি স্কুলে এসব রোবটিক হাত ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব রোবটিক হাত কথা থেকে ইশারা ভাষায় অনুবাদে ৯২ শতাংশ নির্ভুলতা দেখাচ্ছে। কিমাথি বলেন, এই ফলাফল গবেষণাগারে দীর্ঘ সময় কাজের পরিশ্রমকে সার্থক করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, আমরা অন্য কারও মুখে হাসি ফোটাতে যাচ্ছি।’
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত