নাটোরে ছাত্রলীগ কর্মীকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যার ভুয়া দাবি শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ।
ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, নাটোরে ছাত্রলীগ কর্মীকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যার ভুয়া দাবি শনাক্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে, নাটোরে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের দায়ী করা হচ্ছে।
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে জানা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি আসলে নওগাঁর একটি স্কুলমাঠের মেলায় চুলে দড়ি বেঁধে খেলা দেখানোর দৃশ্য। এটি কোনো হত্যার ঘটনা নয়।
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান টিম জানায়, ভাইরাল ঝাপসা ভিডিওটির কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ‘ঘঅউওণঅ খওঠঊ’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে তুলনামূলক স্পষ্ট একটি ভিডিও পাওয়া যায়। সেই ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, ‘সার্কাস খেলা দেখুন কি ভয়ংকর।’ ওই স্পষ্ট ফুটেজটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, গাছে ঝুলন্ত যুবকের গলায় কোনো ফাঁস দেওয়া হয়নি। তার মাথার চুলের সাথে দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে খেলা দেখানো হচ্ছিল। এছাড়া ভিডিওতে ঝুলন্ত যুবকের পেছনের ভবনে ‘চকশ্রীপুর এ এম উচ্চ বিদ্যালয়’ লেখাটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। অনুসন্ধানে জানা যায়, চকশ্রীপুর এ এম উচ্চবিদ্যালয়টি নাটোর নয়, বরং নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার চকশ্রীপুর গ্রামে অবস্থিত। অর্থাৎ, ভিডিওটি নাটোরের নয়।
এই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে চকশ্রীপুর এ এম উচ্চবিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে পাওয়া প্রধান শিক্ষক মোঃ হাফিজুর রহমানের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, চলতি বছরের ২৬ আগস্ট স্কুল বন্ধ থাকার দিন স্কুলমাঠে এই খেলা দেখানো হয়। একই সাথে তিনি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ওই দিনের ঘটনার আরেকটি ভিডিও ফুটেজ পাঠান ফ্যাক্টওয়াচ টিমের কাছে। এই ভিডিও ফুটেজে চুলে রশি বেঁধে ঝুলতে থাকা সেই ছেলেটিকে স্বাভাবিকভাবে দেখতে পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, মাথায় আগুন নিয়ে একটি ছেলে খেলা বা জাদু প্রদর্শন করছিল। তার ঠিক পাশেই অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে পূর্বে গাছে ঝুলে খেলা দেখানো ওই ছেলেটি। এই দৃশ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ছেলেটি পুরোপুরি সুস্থ ছিল।
ফ্যাক্টওয়াচ অনুসন্ধান টিম জানায়, নাটোরে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে-এই দাবির সমর্থনে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম থেকে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মূলত ভাইরাল ভিডিওটি ভিত্তিহীন দাবিতে ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে। ফেসবুক এসব পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে দেশ বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তীকাল সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল, সরকার গঠনের পর বিএনপিকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়।
দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ সেসব বিষয় নিয়মিতভাবে যাচাই করে সত্য তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।
নাটোরে ছাত্রলীগ কর্মীকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যার ভুয়া দাবি শনাক্ত
নাটোরে ছাত্রলীগ কর্মীকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যার ভুয়া দাবি শনাক্ত
নাটোরে ছাত্রলীগ কর্মীকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যার ভুয়া দাবি শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ। ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, নাটোরে ছাত্রলীগ কর্মীকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যার ভুয়া দাবি শনাক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে, নাটোরে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের দায়ী করা হচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে জানা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি আসলে নওগাঁর একটি স্কুলমাঠের মেলায় চুলে দড়ি বেঁধে খেলা দেখানোর দৃশ্য। এটি কোনো হত্যার ঘটনা নয়। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান টিম জানায়, ভাইরাল ঝাপসা ভিডিওটির কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ‘ঘঅউওণঅ খওঠঊ’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে তুলনামূলক স্পষ্ট একটি ভিডিও পাওয়া যায়। সেই ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, ‘সার্কাস খেলা দেখুন কি ভয়ংকর।’ ওই স্পষ্ট ফুটেজটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, গাছে ঝুলন্ত যুবকের গলায় কোনো ফাঁস দেওয়া হয়নি। তার মাথার চুলের সাথে দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে খেলা দেখানো হচ্ছিল। এছাড়া ভিডিওতে ঝুলন্ত যুবকের পেছনের
ভবনে ‘চকশ্রীপুর এ এম উচ্চ বিদ্যালয়’ লেখাটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। অনুসন্ধানে জানা যায়, চকশ্রীপুর এ এম উচ্চবিদ্যালয়টি নাটোর নয়, বরং নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার চকশ্রীপুর গ্রামে অবস্থিত। অর্থাৎ, ভিডিওটি নাটোরের নয়। এই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে চকশ্রীপুর এ এম উচ্চবিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে পাওয়া প্রধান শিক্ষক মোঃ হাফিজুর রহমানের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, চলতি বছরের ২৬ আগস্ট স্কুল বন্ধ থাকার দিন স্কুলমাঠে এই খেলা দেখানো হয়। একই সাথে তিনি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ওই দিনের ঘটনার আরেকটি ভিডিও ফুটেজ পাঠান ফ্যাক্টওয়াচ টিমের কাছে। এই ভিডিও ফুটেজে চুলে রশি বেঁধে ঝুলতে থাকা সেই ছেলেটিকে স্বাভাবিকভাবে দেখতে পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, মাথায় আগুন নিয়ে একটি ছেলে খেলা বা জাদু প্রদর্শন করছিল। তার ঠিক পাশেই অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে পূর্বে গাছে ঝুলে খেলা দেখানো ওই ছেলেটি। এই দৃশ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ছেলেটি পুরোপুরি সুস্থ ছিল। ফ্যাক্টওয়াচ অনুসন্ধান টিম জানায়, নাটোরে
ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে-এই দাবির সমর্থনে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম থেকে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মূলত ভাইরাল ভিডিওটি ভিত্তিহীন দাবিতে ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে। ফেসবুক এসব পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে দেশ বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তীকাল সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল, সরকার গঠনের পর বিএনপিকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়। দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ সেসব বিষয় নিয়মিতভাবে যাচাই করে সত্য তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত