জেলার শান্তি ও উন্নয়নে নানা উদ্যোগ চললেও পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি যেন থামছেই না। বিভিন্ন সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। মাটিরাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (প্রসীত গ্রুপ) তিন সদস্যকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি এলজি এবং একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, সিলকপাড়ার কর্ণ ত্রিপুরার বাড়িতে সশস্ত্র ব্যক্তিদের অবস্থানের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মাটিরাঙ্গা সেনা জোনের একটি টহল দল বাড়িটি ঘেরাও করে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে পিস্তল, এলজি ও খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়। আটকরা হলেনÑ গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের থোয়াইগ্য মারমার ছেলে হ্লাপ্রুসাই মারমা (৩০), গুইমারা ইউনিয়নের কলাপাড়ার সুমইল্লা চাকমার ছেলে তেজেন্দ্র চাকমা (২৭) এবং মাটিরাঙ্গা ইউনিয়নের মানসি পাড়ার দুর্গ মোহন ত্রিপুরার ছেলে বিশ্ব ত্রিপুরা (২৮)।
মাটিরাঙ্গা থানার ওসি মো. সাহেদ উদ্দিন জানান, উদ্ধার অস্ত্রসহ আটকদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
মাটিরাঙ্গা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
গত বুধবার দীঘিনালা উপজেলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে সুজন চাকমা নামে একজন নিহত হয়। অপরদিকে, রামগড় উপজেলায় সেনাবাহিনীর টহল দেখে ইউপিডিএফ গুলি করায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাল্টা গুলিতে ববিন ত্রিপুরা নামে একজন নিহত হয়। পাহাড়ে প্রতিনিয়ত আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের বন্দুকযুদ্ধ এলাকায় প্রায়ই আতঙ্ক ছড়িয়ে থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে সক্রিয় বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের দ্বন্দ্বের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হচ্ছে না। খাগড়াছড়ির দুর্গম অঞ্চলগুলোতে মাঝে মধ্যে গোলাগুলি, অপহরণ এবং চাঁদা দাবির ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে আসে। বিশেষ করে পাহাড়ি জনপদে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রত্যাশা করলেও সশস্ত্র তৎপরতায় তাদের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করে। ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও অস্ত্রধারীদের উপস্থিতি পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত, হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র তৎপরতায় অন্তত তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।
নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়। মে মাসে গুইমারা এলাকায় অস্ত্রসহ ইউপিডিএফের তিন সদস্যকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ অস্ত্রধারী কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছি। তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের অপরাধ বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানাই। পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
অস্ত্রের ঝনঝনানিতে উত্তপ্ত খাগড়াছড়ি
অস্ত্রের ঝনঝনানিতে উত্তপ্ত খাগড়াছড়ি
জেলার শান্তি ও উন্নয়নে নানা উদ্যোগ চললেও পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি যেন থামছেই না। বিভিন্ন সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। মাটিরাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (প্রসীত গ্রুপ) তিন সদস্যকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি এলজি এবং একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, সিলকপাড়ার কর্ণ ত্রিপুরার বাড়িতে সশস্ত্র ব্যক্তিদের অবস্থানের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মাটিরাঙ্গা সেনা জোনের একটি টহল দল বাড়িটি ঘেরাও করে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে পিস্তল, এলজি ও খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়। আটকরা হলেনÑ গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের থোয়াইগ্য মারমার ছেলে হ্লাপ্রুসাই মারমা (৩০), গুইমারা ইউনিয়নের কলাপাড়ার সুমইল্লা চাকমার ছেলে তেজেন্দ্র চাকমা (২৭) এবং মাটিরাঙ্গা ইউনিয়নের মানসি পাড়ার দুর্গ মোহন ত্রিপুরার ছেলে বিশ্ব ত্রিপুরা (২৮)। মাটিরাঙ্গা থানার ওসি মো. সাহেদ উদ্দিন জানান, উদ্ধার অস্ত্রসহ আটকদের থানায়
হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। মাটিরাঙ্গা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গত বুধবার দীঘিনালা উপজেলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে সুজন চাকমা নামে একজন নিহত হয়। অপরদিকে, রামগড় উপজেলায় সেনাবাহিনীর টহল দেখে ইউপিডিএফ গুলি করায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাল্টা গুলিতে ববিন ত্রিপুরা নামে একজন নিহত হয়। পাহাড়ে প্রতিনিয়ত আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের বন্দুকযুদ্ধ এলাকায় প্রায়ই আতঙ্ক ছড়িয়ে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে সক্রিয় বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের দ্বন্দ্বের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হচ্ছে না। খাগড়াছড়ির দুর্গম অঞ্চলগুলোতে মাঝে মধ্যে গোলাগুলি, অপহরণ এবং চাঁদা দাবির ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে আসে। বিশেষ করে পাহাড়ি জনপদে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রত্যাশা করলেও সশস্ত্র তৎপরতায় তাদের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করে। ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও অস্ত্রধারীদের উপস্থিতি পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। চলতি বছরের
জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত, হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র তৎপরতায় অন্তত তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়। মে মাসে গুইমারা এলাকায় অস্ত্রসহ ইউপিডিএফের তিন সদস্যকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ অস্ত্রধারী কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছি। তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের অপরাধ বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানাই। পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৮),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত