Logo
শিরোনাম
বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা" পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার ১৬৩ টাকায় তেল বিক্রির ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: ভোক্তার মহাপরিচালক দুর্গাপুরে বালুবাহী হ্যান্ডট্রলির চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত নওগাঁয় প্রাইভেটকার তল্লাসি, ৭২ কেজি গাঁজা সহ যুবক আটক রূপগঞ্জে প্রাইভেটকার চাপায় গৃহবধু নিহত রাঙ্গামাটির বড়ইছড়ি নির্মাণ শ্রমিক বোঝাই ট্রাক খাদে নিহত-২, আহত-২০ মুসলিমদেরকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে নওগাঁয় কম্পিউটার ব্যবসার অন্তরালে অশ্লিল ভিডিও বিক্রি করায় ৩ যুবক আটক

সাত ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয়েছিলো নোয়াখালী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

অনুপ সিংহ,নোয়াখালী প্রতিনিধি :

আজ সাত ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবস। একাত্তরের এদিন ভোরে বৃহত্তর নোয়াখালীর মুজিব বাহিনীর প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এবং সি-জোনের কমান্ডার মোশারেফ হোসেনের নেতৃত্বে জেলা শহর মাইজদী আক্রমন করে মুক্তিযোদ্ধারা। একযোগে তারা তিনটি রাজাকার ক্যাম্প দখল করে। আত্মসমর্পণ করে পাকিস্থানীদের এদেশীয় দালাল রাজাকাররা। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সন্মুখ যুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধের মুখে অবস্থা বেগতিক দেখে নোয়াখালী পিটিআই’র ট্রেনিং সেন্টার থেকে তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যায় পাকিস্থানী সেনারা, শত্রুমুক্ত হয় নোয়াখালী।

৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল। সি-জোনের গুপ্তচরের মাধ্যমে জানতে পারে জেলা শহর মাইজদীতে পাক হানাদার বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে গেছে। তাৎক্ষনিক জোন এর রাজনৈতিক প্রধান আলী আহম্মদ চৌধুরী সহ অন্যান্য কমান্ডারবৃন্দ জরুরী বৈঠকে বসে এবং নোয়াখালী শহরে অবস্থিত পাক বাহিনী ও রাজাকারদের উপর আক্রমন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে মুজিব বাহিনীর প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এবং ডি-জোনের কমান্ডার রফিক উল্যাহ্’র বাহিনী সহ মুক্তিযোদ্ধারা সবাই মিলে যৌথ অভিযান চালিয়ে মাইজদী ভোকেশনাল, নাহার মঞ্জিল, কোর্ট ষ্টেশন, রৌশন বাণী সিনেমা হল, দত্তের হাট, কোল্ড ষ্টোরিজ সহ সব রাজাকার ক্যাম্প মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে নিয়ে আসে। বাকি ছিলো শুধু পাকিস্থানি বাহিনীর মূল ক্যাম্প মাইজদী পিটিআই। অন্য সবগুলো ক্যাম্প দখল নেওয়ায় একা হয়ে যায় পিটিআই।

একদিকে সাধারণ মানুষের আনন্দ মিছিল, অন্যদিকে আক্রমন করতে হবে পিটিআই। পিটিআই হোস্টেল দিঘির উত্তর পাড়ে ৩ তলা বিল্ডিং এ রাজাকারদের হেড কোয়াটার ছিল। কিন্তু এ বিল্ডিং ভাঙার মতো কোন বিধংসি অস্ত্র ছিলোনা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে। তাই ফেনী থেকে একটা ২ ইঞ্চি মোটার এনে তা থেকে তিন তিনটা মোটার সেলের দ্বারা পিটিআই হোস্টেলে আক্রমনের মাধ্যমে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা দিকে মাইজদী শহরে সর্বশেষ রাজাকার ক্যাম্প এর পতন ঘটিয়ে নোয়াখালীর শহর মাইজদীর হেড কোয়ার্টার হানাদার মুক্ত করা হয়। জেলা শহরের চারিদিকে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তি পাগল মানুষের আনন্দ জোয়ারের ঢল উঠে।

নতুন প্রজন্মের কাছে ৭ ডিসেম্বরের স্মৃতিকে পরিচয় করিয়ে দিতে ১৯৯৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর পাক-বাহিনীর ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী পিটিআই সম্মুখে স্থাপন করা হয় স্মরণিকা স্তম্ভ ‘‘মুক্ত নোয়াখালী’’। আর বর্তমান সরকার মতায় আসার পর একই স্থানে বর্ধিত পরিসরে স্থাপন করা হয় নোয়াখালী মুক্ত মঞ্চ।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাত্রিতে পাকিস্থানী বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর মুক্তিকামী ছাত্রজনতা পুলিশ ও ইপিআর ফেরত জওয়ানদের সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত নোয়াখালী ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে। পরবর্তীতে পাকবাহিনীর হামলার মুখে মুক্তিযোদ্ধারা টিকতে না পেরে পিছু হটলে নোয়াখালীর নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্থানীরা। নোয়াখালী পিটিআই এবং বেগমগঞ্জ সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে শক্তিশালী ঘাটি গাড়ে পাকিস্থানী সেনাবাহিনী। তাদের সাথে এদেশীয় রাজাকাররা মিলে শুরু করে লুটপাট। এরই মধ্যে নোয়াখালীর অসংখ্য ছাত্র জনতা প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারত থেকে এসে পাকিস্থানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জাপিয়ে পড়ে। কোম্পানীগঞ্জের বামনীর যুদ্ধ, বেগমগঞ্জের বগাদিয়াসহ অসংখ্য যুদ্ধ হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে। শহীদ হয় শত শত মুক্তিযোদ্ধা। শুধুমাত্র সোনাপুরের শ্রীপুরে তারা হত্যা করেছিলো শতাধিক ব্যক্তিকে। ডিসেম্বরের শুরুতেই নোয়াখালীর প্রত্যন্ত প্রান্তরে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থানিদের পিছু হটিয়ে দেয়। ৬ ডিসেম্বর দেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা বেগমগঞ্জ মুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা। আর ৭ ডিসেম্বর মুক্ত হয় গোটা নোয়াখালী।


আরও খবর

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ সাত

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




নারী সমাজকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি ও উৎসাহের বাতিঘর পারভীন আকতার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁর নারী সমাজের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি ও উৎসাহের বাতিঘর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন পারভীন আকতার। সমাজের পিছিয়ে পড়া, অবহেলিত ও নির্যাতিত নারীদের নতুন উদ্যোমে এগিয়ে নিতে কাজ করে আসছেন পারভীন আকতার। আমাদের সমাজে যে সব নারী তাদের ইচ্ছেশক্তি ও যোগ্যতা দিয়ে নিজেকে সমাজে শীর্ষস্থানে উন্নীত করার গৌরব অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন পারভীন আকতার। 

কঠোর পরিশ্রম ও মেধার সমন্বয়ে রাজনৈতিক সফলতা অর্জন করেছেন অপরাজিতা নারী পারভীন আকতার। বর্তমানে তিনি নওগাঁ জেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের সেবা করে চলেছেন। একই সঙ্গে নওগাঁ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে নারীদের রাজনৈতিক অধিকার চর্চার প্লাটফরমকে মসৃন করতে বিরামহীন সংগ্রাম করে চলেছেন। 

নওগাঁ সদর উপজেলার বাঙ্গাবাড়িয়া মহল্লার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা নইমুদ্দীন ও মাতা হাসিনা বেগমের সন্তান পারভীন আকতারের জন্ম ১৯৭৭ সালের ১জানুয়ারীতে। ছোট বেলা থেকেই অধিকার আদায়ে সচেতন পারভীনের রাজনীতির প্রতি ছিল চরম ঝোঁক। ১৯৯৩ সালে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতির জগতে প্রবেশ করেন পারভীন। এরপর থেকে আওয়ামীলীগ এর রাজনীতির সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে জড়িয়ে রেখেছেন নিজেকে। রাজনীতির পাশাপাশি নিজেকে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী করার পথ খুজতে গিয়ে এইচএসসি পাসের পর আর পড়ালেখা করতে পারেননি পারভীন আকতার। 

নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার শুরুর দিকে পারভীন আকতার জেলা যুব উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে বøক-বুটিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে “প্রভাতী বুটিকস হাউস” নামের একটি বুটিক শপের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন। তার হাত ধরেই অনেক পিছিয়ে পড়া, নির্যাতিত ও অসহায় নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। নওগাঁ জেলা সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন কালে ২০১২ সালে তিনি অপরাজিতা প্রকল্পের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। এরপর থেকে অপরাজিতা প্রকল্পের ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত অংশ গ্রহন করে জনমানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

তিনি ২০০৯ সালে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হোন এবং ২০১৩ সাল থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়াম্যান এর দায়িত্ব পালন করার পর ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সরাসরি অংশ গ্রহণ করে পরাজিত হলেও কিন্ত তিনি থেমে থাকেন নি। ২০১৯ সালে তিনি আবারও অপরাজিতা প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং ২০১৬ সাল থেকে নওগাঁ জেলা পরিষদ নির্বাচনে নওগাঁ-৪ নং সংরক্ষিত আসন থেকে সদস্য নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

যে সময়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে পা রাখেন সে সময়ে নারীরা সেভাবে ঘরের বাহিরে কাজ করতেন না। পারিবারিক সিদ্ধান্তেও নারীদের মতামত নেওয়া হতো না সামাজিক বিধি-নিষেধের পাশাপাশি শ্বশুর বাড়ির সম্মতি অর্জন ছিল সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। পারভীন আকতার ব্যাংকার স্বামী আব্দুল কুদ্দুসের প্রেরণায় সকল বাধা উপেক্ষা পার করে সমাজকে মাদক মুক্ত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে, বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে নারী ও পুরুষের বৈষম্য দূর করতে কাজ করে আসছেন। 

সংসার সামলিয়ে রাজনীতি তারপর বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মূলত অপরাজিতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি নারীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার সম্পর্কে অধিকতর সচেতন হয়ে ওঠেন। অপরাজিতা প্রকল্পের সংস্পর্শে এসেই তিনি সমাজের অবহেলিত, অসহায় মানুষের অবস্থান পরিবর্তন করতে শত-শত উঠান বৈঠক করে নারীর রাজনৈতি অধিকার প্রতিষ্ঠায় মানুষকে সচেতন করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান নারী শক্তির উৎস পারভীন আকতার। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে তাদেরকে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী করে নতুন পরিচয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে যাবেন বলে জানান পারভীন আকতার।


আরও খবর

বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা"

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




২০২৬ সালের মধ্যে তিস্তা সংকট মিটে যাবে

প্রকাশিত:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন, আশা করি ২০২৬ সালের মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে চলমান সংকট মিটে যাবে। কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাস আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত সরকারের নয়, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তিস্তা। আলোচনা হয়েছে, ভারতের জাতীয় নির্বাচনের পর একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারবো। তাদের সঙ্গে ২০২৬ সাল পর্যন্ত গঙ্গা চুক্তিও আছে। আশা করি এর মধ্যেই পানি চুক্তির সমাধান হবে।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, আমাদের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিজনেস করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়া করবে।

অপর একটি প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ অংশে তিস্তার উপরে ব্যারেজ নিয়ে আলোচনা হয়নি, এটি নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি।

ভারতের সঙ্গে আমাদের খুব আত্মিক এবং উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সেই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

মিয়ানমার সীমান্তে দেশটির রক্ষীদের অনুপ্রবেশের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সমাধানে কিভাবে একযোগে কাজ করা যায় এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কীভাবে ফেরত পাঠানো যায়, সেসব বিষয়েও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে ৪০ বছরের বেশি পুরোনো ছিটমহল সমস্যা যখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পেরেছি, টাঙ্গাইল শাড়ির সমস্যার সমাধানও হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

এসময় কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াসসহ মিশনের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 


আরও খবর

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ সাত

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হত্যা

প্রকাশিত:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় নিরব আহমেদ (১৭) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শ্রীনগর উপজেলার কাজী ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নিরব শ্রীনগর উপজেলার মধ্য কামারগাঁও এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। সে লৌহজং পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীনগর উপজেলার কাজী ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রীকে উত্যক্ত করে কয়েকজন যুবক। এ সময় নিহত নিরব ও তার সহপাঠীরা ঘটনার প্রতিবাদ করে।

এ ঘটনার জের ধরে শুক্রবার বিকালে শ্রীনগর উপজেলার কামারগাঁও এলাকায় আড্ডা দেওয়ার সময় নিরব ও তার সহপাঠীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ইভটিজিংকারীরা।

এ সময় নিরবকে ধারালো ছুড়ি দিয়ে মাথা ও পিঠে আঘাত করে ইভটিজিংকারী প্রতিপক্ষরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা নিরবকে গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক নিরবকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, ইভটিজিংয়ের ঘটনার প্রতিবাদ করায় নিরবকে ছুরিকাঘাত করে প্রতিপক্ষরা পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে পুলিশ।

 


আরও খবর

বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা"

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




মানিকগঞ্জে কৃষিক্ষেত্রে মালচিং পদ্ধতির প্রতি জনপ্রিয়তা বাড়ছে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

মাহবুবুল আলম রিপন,স্টাফ রিপোর্টার :

প্রযুক্তির কল্যানে বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। কথাটি এখন শুধু মানুষের মুখে মুখে নয়। কৃষিক্ষেত্রে  মালচিং পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করে  বাস্তবে পরিনত করেছে মানিকগঞ্জের কৃষকেরা। তারা ভারতের পঞ্চিম বঙ্গের ও বাংলাদেশের বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল দেখে লাভজনক এ মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেছে। এই পদ্ধতি ইতি মধ্যে মানিকগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

জানাযায়,কম খরচে অধীক লাভ হওয়ায় কৃষকরা এই পদ্ধতির প্রতি বেশি ঝুকে পড়ছে। বর্তমানে মানিকগঞ্জের  শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর,শিমুলিয়া,উলাইল,উথুলিসহ অন্যান্য ইউনিয়ন এবং হরিরামপুর, সাটুরিয়া উপজেলা সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায়মরিচ,শশা,টমোটো,করলা,বেগুন সহ বিভিন্ন ফসল  মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে দেখাযাচ্ছে।

স্বরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, প্রথমে আবাদি জমি প্রস্তত করে তারপর বীজতলা বা বেড তৈরি করা হয়।তার পর একটি ড্রেন আবার বেড, আবার ড্রেন, এভাবেই এ পদ্ধতিতে জমি তৈরি করা হয়। এর পর মালচিং পেপার (একধরনে ধরনের পলিথিন) দিয়ে বেডগুলোকে ঢেকে দেয়া হয়। । এরপর নিদ্দির্ষ্ট দূরত্বে মালচিং পেপার ছিদ্র করে বা গোল করে কেটে চারা রোপন করা হয়। এ পদ্ধতিকে মালচিং বা পলি মালচিং পদ্ধতিও বলা হয়। ভারতের পঞ্চিম বঙ্গে এটাকে পলি মালচিং পদ্ধতি বলে।

মানিকগঞ্জের  শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের ইউটিউব দেখে  প্রশিক্ষন নেওয়া কৃষক মোঃ জুয়েল হোসেন (এরশাদ) বলেন, আমাদের এলাকায় গেল বছর দু-একজন মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে বেশ সুফল পেয়েছিল । তাই আমি এবার  বাংলাদেশ ও ভারতের বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেল দেখেএ পদ্ধতিতে আবাদ করতে উৎসাহিত হই ।এ পদ্ধতিটা আমি ইউটিউব দেখেই শিখেছি ।এবছর তিনি ৮ বিঘা (কারেন্ট মরিচ) হাইব্রিড মরিচ এই পলি মালচিং পদ্ধতিতে আবাদ করেছেনন। 

তিনি আরো বলেন,এ পদ্ধতিতে গাছের গোড়ায় পানি শুকিয়ে যায় না এবং গাছের প্রয়োজনীয় পানি সব সময় থাকে ।ড্রেনের মধ্য দিয়ে পানি দেয়ার ফলে পাশের বেডের মাটি পানি ধরে রাখে যা অতি রোদ্রেও শুকিয়ে যায় না।যেখানে ৬ বার সেচ দিতে হতো সেখানে এখন দুইবার সেচ দিলেই পুরো সিজন হয়ে যায়। আগে এই পদ্যতি নাথাকায় অতি বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে গাছ মরে যেত।কিন্তু ড্রেন পদ্ধতি থাকায় এখন আর পানি জমতে পারে না। অধিক বৃষ্টিতেও গাছ বেডের উপর থাকাতে গাছের কোন ক্ষতি হয় না। এ পদ্ধতিতে জমিতে আগাছাও জন্মাতে পারে না। এতে করে  আমাদের খরচ ও অনেক কম হয়।

কৃষক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে বেশি খরচ লাগেনা। তবে প্রথমেই খরচটা করতে হয় বিধায় আমাদের কৃষকদের বেশ বেগ পেতে হয়। তিনি বলেন,৪ফুট প্রশস্ত এবং ৪০০ ফুট লম্বা একটা মালচিং পেপার রোলের দাম ৫ হাজার টাকা। এ রকম একটা রোল ১৮ শতাংশ জমিতে দেয়া য়ায়।সত্যিকারে যারা মালচিং পদ্ধতিতে আবাদ করেসরকারি ভাবে যদি  তাদের ভর্তুকি বা কমসূদে লোন দেয়া হয় তাহলে এই পদ্ধতির প্রতি অনেকেই উৎসাহিত হতো।এতেকরে  দেশের উৎপাদনও বৃদ্ধি পেত।

মোঃ আওলাদ হোসেন খান বলেন,এই পদ্ধতির বিষয়ে আমাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষন দেয়া প্রয়োজন। তিনি দ্রুত এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষনের ব্যাবস্থার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতি আহবান জানান। মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ্ বলেন,এ পদ্ধতিটাঅবশ্যই ভালো। আমরা কৃষকদের এ পদ্ধতির প্রতি( উদ্ভুদ্ধ করছি।সিংগাইর এলাকায় আমরা কৃষকদের উন্নত চাষাবাদের প্রশিক্ষন দিচ্ছি এবং সব জায়গাতেই এটা করা হবে।

কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক(শস্য) ড.মমতাজ সুলতানা বলেন,পলি পেপারের জন্যে এখনও কৃষক পর্যায়ে ভর্তুকির কোন নির্দেশনা আমাদের নেই। তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা কৃষকদের সকল প্রকার কারিগরি সহযোগীতা দিয়ে থাকি।


আরও খবর

বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা"

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




সবুজ হাইড্রোজেন কি, দক্ষিন এশিয়ার জ্বালানীর চাহিদা পরিবর্তন করতে পারবে ?

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

পরিচ্ছন্ন শক্তির একটি সম্ভাবনাময় উৎস হিসেবে সবুজ হাইড্রোজেন যথেষ্ট মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং এটিকে  ‘ভবিষ্যতের জ্বালানি’ হিসেবে গন্য করা হচ্ছে। কিন্তু সবার আগে আমাদের বুঝা উচিত এই ‘সবুজ হাইড্রোজেন’ আসলে কী? কিভাবে এটি ‘সবুজে’ পরিনত হয় এর ব্যবহার ও উপকারিতাগুলো কী কী? এই নিবন্ধটিতে আমরা এই প্রতিশ্রুতিশীল শক্তির উৎসের ধরণটি তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় এর অগ্রগতি এবং সম্ভাবনার বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করছি।

পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প কার্যক্রমে জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেন গ্যাস  ব্যবহার করা যেতে পারে। যখন এটি পোড়ানো হয়, এটি কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গত করে না। সবুজ হাইড্রোজেন হল হাইড্রোজেন গ্যাসকে দেওয়া নাম যা নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত হয়েছে, যেমন বায়ু বা সৌর শক্তি, যা গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গত করে না।

একটি জ্বালানী ব্যটারী –যা রাসায়নিকের শক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করে – হাইড্রোজেন গ্যাস অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ এবং জলীয় বাষ্প তৈরি করে। হাইড্রোজেনের কার্বন নির্গত না করে শক্তি উৎপন্ন করার ক্ষমতার কারণে, এটি জীবাশ্ম জ্বালানির একটি সম্ভাব্য  বিকল্প।

হাইড্রোজেন মহাবিশ্বের সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে থাকা  রাসায়নিক উপাদান। অবশ্য প্রচুর পরিমাণে থাকা সত্ত্বেও, হাইড্রোজেন ব্যবহারযোগ্য পরিমাণে গ্যাস হিসাবে প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান নয়। এটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে নানা ধরনের যৌগগুলিতে উপস্থিত থাকে, যেমন পানি। তাই হাইড্রোজেন কেবল শিল্প প্রক্রিয়াতেই উৎপাদন করা আবশ্যক। এর মধ্যে বেশিরভাগই প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রতিস্থাপনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত – একটি জীবাশ্ম জ্বালানী। অন্যান্য যেসব পদ্ধতি রয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে ইলেক্ট্রোলাইসিস নামক একটি প্রক্রিয়া সহ যা পানিকে এর মৌলিক উপাদানগুলিতে বিভক্ত করতে বৈদ্যুতিক প্রবাহ ব্যবহার করে। এই মৌলিক উপাদানগুলি হল হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন।

হাইড্রোজেন গ্যাস পোড়ানোর সময় কার্বন নির্গত করে না, এটি উত্পাদন করতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ, ইলেক্ট্রোলাইসিস বা অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, জীবাশ্ম জ্বালানী দ্বারা উত্পন্ন হতে পারে। এটি সাধারণত ‘ধূসর হাইড্রোজেন’ নামে পরিচিত, যা বর্তমানে মোট উৎপাদনের ৯৫ শতাংশের জন্য দায়ী।

কয়লা বা গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে উৎপাদিত হাইড্রোজেন, কার্বন ক্যাপচার অ্যান্ড স্টোরেজ (CCS) প্রযুক্তির সাথে মিলিয়ে উৎপাদন করা হয় যা কার্বন নির্গমনকে বাধা দেয় এবং বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। একে ব্লু বা নীল হাইড্রোজেন বলা হয়।

সবুজ হাইড্রোজেন হচ্ছে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ দ্বারা চালিত ইলেক্ট্রোলাইসিসের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়, যা সৌর প্যানেল বা বায়ু টারবাইনের মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপন্ন হয়।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (IEA) এর মতে, হাইড্রোজেন বিশ্বব্যাপী শক্তির পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে এটি হবে এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি অপেক্ষাকৃত ছোট অংশ। এই সংস্থাটি আরো বলছে যে ২০২০ সালে, হাইড্রোজেন এবং হাইড্রোজেন-ভিত্তিক জ্বালানী বিশ্বব্যাপী মোট শক্তি ব্যয়ের ০.১ শতাংশেরও কম।কিন্তু ২০৫০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হাইড্রোজেন একটি সম্পূরক হতে পারে, কিন্তু এটি কখনই সৌর বা বায়ু শক্তির মতো পরিচ্ছন্ন শক্তির অন্যান্য উৎসগুলোকে প্রতিস্থাপন করবে না, যা উৎপাদন করা অত্যন্ত সাশ্রয়ী। এছাড়াও, সেগুলো বাড়ি এবং কারখানার ব্যাপক উৎপাদন এবং বিদ্যুতায়নের জন্য উপযুক্ত।

তবে একটি শক্তিশালী নবায়নযোগ্য অবকাঠামো পানিকে এর মৌলিক উপাদানগুলিতে আলাদা করার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বৃহৎ পরিসরে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনে সক্ষমতা এনে দিতে পারে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের (আইওসি) এর গবেষণা ও উন্নয়ন পরিচালক এস. ভি. রামকুমার বলেন“সবুজ হাইড্রোজেন নবায়নযোগ্য শক্তিকে প্রতিস্থাপন করতে হয়ত পারবে না, তবে সৌর শক্তি থেকে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন খুব কার্যকর হবে।”

বিশ্বব্যাপী, বর্তমানে উৎপাদিত বেশিরভাগ হাইড্রোজেন পরিশোধন ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত হয়। ন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি এর ধারণামেত, এই দশকের শেষ নাগাদ, হাইড্রোজেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকগুলো নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ গ্রিড তরঙ্গায়িতকরণ ,বাসাবাড়িতে জ্বালানী ব্যবহার এবং পরিবহন খাত।

বর্তমানে উৎপাদিত মোট হাইড্রোজেনের একটি ছোট অংশ সার কারখানায় অ্যামোনিয়া তৈরি বা জাহাজে জ্বালানী হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইস্পাত শিল্পেও এর ব্যবহার রয়েছে। যদি কয়লা এবং কোক উৎপাদন শিল্পে (যা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্লাস্ট ফার্নেস ব্যবহার করে) সবুজ হাইড্রোজেন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা যায় তাহলে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমানে নির্গমন মাত্রা কমিয়ে আনা যেতে পারে।

উন্নয়নশীল দেশগুলো যেমন ভারত যে তার জ্বালানী পরিবর্তন লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে জাতীয় হাইড্রোজেন মিশনে বিনিয়োগ করছে, তারা ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পে এই হাইড্রোজেন ব্যবহার করতে পারে। উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সবুজ করার মাধ্যমে ধূসর হাইড্রোজেন যেমন প্রাকৃতিক গ্যাস বা ন্যাপথা উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারের পরিমাণও কমিয়ে আনা যেতে পারে।

নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি, যেমন সৌর, বায়ু বা পানিবিদ্যুৎ প্রধানত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যই ব্যবহৃত হয়। যদিও জ্বালানী ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদু্যৎই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তুলনামূলকভাবে সহজেই নবায়নযোগ্য শক্তি দ্বারা এই ব্যবহারের মাত্রা অত্যন্ত সাশ্রয়ী প্রক্রিয়ায় এটি প্রতিস্থাপিত হতে পারে। তবে অন্যান্য খাত যেমন দৃরপাল্লার পরিবহন বা ভারী শিল্প এখনও কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস বা পেট্রোলিয়াম জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এইগুলোর জ্বালানী হিসেবে প্রধান যা হাইড্রোজেন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে পারে।

ন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি এর মতে হাইড্রোজেন ব্যাটারিতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। জ্বালানী ব্যাটারি যদি বৃহৎ পরিসরে বিকশিত হয়, তাহলে দেশগুলিকে এমন অবকাঠামো স্থাপনে সাহায্য করতে পারে যা বায়ুর গতি বা সৌর বিকিরণের মতো পরিবেশগত অবস্থার উপর নির্ভর করে তাদের নবায়নযোগ্য শক্তির সরবরাহ সংরক্ষণ এবং স্থিতিশীল করতে পারে। কিন্তু পরিবেশগত নানা কারনে এটি পরিবর্তনশীল হতে পারে।

ন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি -এর গ্লোবাল হাইড্রোজেন রিভিউ ২০২১ অনুসারে, বর্তমানে সবুজ হাইড্রোজেনের মূল্য প্রতি কিলোগ্রাম ৩ মার্কিন ডলার থেকে ৮ মার্কিন ডলার। অবশ্য এটি ধূসর হাইড্রোজেনের সাথে প্রতিযোগিতামূলক নয়, ধূসর হাইড্রোজেনের মূল্য প্রতি কিলোগ্রাম ০.৫ থেকে ১.৭ মার্কিন ডলারের মধ্যে। সংস্থাটির মতে,  এই মূল্যের ব্যবধানের কারনে বর্তমানে সবুজ হাইড্রোজেনের ব্যবহার আরো ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না , তবে নবায়নযোগ্য শক্তির মূল্য কমে যাওয়ার সাথে সাথে সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবধানটি সংকুচিত হবে বলে তারা আশা করছে। দিল্লি-ভিত্তিক  কাউন্সিল অন এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটার (CEEW) এর দীপক যাদব, বলেন, অনেক দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি কিলোগ্রাম এক  ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা সবার ক্ষেত্রে প্রায় একই রকম হবে। তখন জীবাশ্ম জ্বালানী হিসেবে এর মূল্য প্রতিযোগীতামূলক করে তুলবে।

কাউন্সিল অন এনার্জি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটার এর দীপক যাদব  বলেন, পাকিস্তান বর্তমানে প্রতিদিন ১৫০ টন সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় গ্রিন হাইড্রোজেন নিয়ে পাইলট প্রকল্প চালুর কাজ এগিয়ে চলছে। তবে যাদবের মতে, ভারতই দক্ষিণ এশিয়ায় সবুজ হাইড্রোজেনের প্রধান উৎপাদক হবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।

২০২১ সালের আগষ্ট মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতীয় হাইড্রোজেন মিশন উদ্বোধন করেন। এটি আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্দারণ করেছে এক মিলিয়ন টন। আইওসি-এর এসএসভি রামকুমার বলেন, এই পরিকল্পনার অধীনে সরকার ইলেক্ট্রোলাইজার  তৈরি ও গবেষণা বিকাশে আর্থিক সহায়তার জন্য একটি প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেন্টিভ পরিকল্পনা শুরুর পরিকল্পনা করেছে।

বাংলাদেশ সরকারের নতুন সমন্বিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ি ২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে ৪০% বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও অভ্যন্তরীণ গ্যাসের উৎপাদন দ্রুত বাড়ার কোনাে সম্ভাবনা নেই। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের ব্যবহার ১৬০ – ৩৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে কারণ ২০৫০ সালের মধ্যে বিদ্যুত উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার ৩০ শতাংশ বাড়বে। অবশ্য সরকার সবুজ হাইড্রোজেন এবং অ্যামোনিয়া  থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি  এবং প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে বিদ্যুত আমদানির বিষয়গুলো সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।


আরও খবর

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ সাত

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪