বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্ট হাউসে উন্মোচিত হলো শরণার্থীদের নিজস্ব নীতি-রূপরেখা • ৩০০ টাকার সেই টিকিট ব্ল্যাকে বিক্রি হচ্ছে ১,০০০ টাকায়! • সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলেছে সিটি করপোরেশন • ভেনিসে ‘ইসলামে নারী’: শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত • বনানী বিদ্যানিকেতনে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা • সিডনিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘ মহালয়া ও মেলা ২০২৬’, • সরকারের ভেতরের প্রশাসনিক দুর্বলতা • আপনার সন্তান কম মেধাবী, নাকি পৃথিবীটাকেই ঝাপসা দেখছে? • নারায়ণগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে তিতাস কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা • রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে বদলে যাবে
জাতীয় এপ্রিলজুড়ে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা

এপ্রিলজুড়ে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এপ্রিলের শুরু থেকেই তাপপ্রবাহের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গতকাল অন্তত ২৭ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে, পাশাপাশি কয়েক দফা মৃদু ও মাঝারি তাপপ্রবাহও দেখা দিতে পারে।

শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে শরীয়তপুরসহ কিছু এলাকায় ইতিমধ্যে বৃষ্টি হয়েছে এবং রাজধানী সংলগ্ন এলাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, রোববার থেকে ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে, যা সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমাতে পারে।

গতকাল রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সব জেলাসহ ঢাকাসহ মোট ২৭ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। তাপপ্রবাহে আক্রান্ত অন্য জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, রাঙামাটি, বরিশাল ও পটুয়াখালী।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে তা মাঝারি, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর পরেই ছিল রাজশাহী, যেখানে তাপমাত্রা ওঠে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে। রাজধানী ঢাকাতেও তাপপ্রবাহ অনুভূত হয়েছে; সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের তুলনায় বেশি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকলেও গরমের অনুভূতি বেশি থাকবে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের কিছু এলাকায়।

২০২৪ সালে দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম টানা তাপপ্রবাহ দেখা গেলেও এবার তেমন পরিস্থিতির সম্ভাবনা কম। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, চলতি মাসে একাধিক বজ্রঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাপপ্রবাহের তীব্রতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

এপ্রিল মাসে সাধারণত গড়ে ৯টি বজ্রঝড় হয়। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি এবং ১ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী হতে পারে। পাশাপাশি সাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা থেকে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়েরও আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এখন তাপপ্রবাহের সময়সীমা বেড়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে তাপমাত্রা তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হতে পারে।

জুন পর্যন্ত পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে তিন থেকে চারটি তীব্র এবং ছয় থেকে আটটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হতে পারে।



খুঁজুন