পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ২৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বিল ও দরপত্র নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবির, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাউদুদুর রহমান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মালিক শাহাদাত হোসেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও স্বাধীন তদন্তের ফলাফল যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথি ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্মাণাধীন হাসপাতাল ভবনের কিছু কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ‘অবশিষ্ট কাজ’ ও অভ্যন্তরীণ সজ্জার নামে একাধিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। এসব দরপত্রের মাধ্যমে মূল প্রকল্পের কাজ পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিল পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেসমেন্টসহ ১০ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণে প্রায় ২৯৯ কোটি ৬৪ লাখ ৭২ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। একই বছরের জুনে সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়। প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার কথা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মূল প্রকল্পের কাজ চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে অতিরিক্ত কয়েকটি দরপত্র আহ্বান ও খোলা হয়। দরপত্রগুলো ভাগ করে অনুমোদন, প্রয়োজনীয় পূর্বানুমোদন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষর জাল করে বিভাগীয় প্রস্তাব তৈরির অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের দেওয়া তালিকায় কাঁচের নির্মাণকাজ, অতিরিক্ত আরসিসি, ইটের দেয়াল, ওভারহেড জলাধার, ভিনাইল ফ্লোরিং, ইপোক্সি পেইন্ট ও মার্বেল পাথরের কাজসহ সাতটি প্যাকেজের উল্লেখ রয়েছে। এসব কাজের বিপরীতে বরাদ্দ বা উত্তোলিত অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত সব অর্থ বাস্তবে পরিশোধিত হয়েছে কি না এবং কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এ বিষয়ে এসএ এন্টারপ্রাইজের মালিক দ্বীন ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি শাহাদাত হোসেনকে তাঁর প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে কাজের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁদের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের পপুলেশন প্রজেক্ট সেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম সোহরাওয়ার্দী জানিয়েছেন, বিষয়টি আগে তাঁর নজরে ছিল না; তিনি তা খতিয়ে দেখবেন। প্রকল্প পরিচালক ডা. আমজাদুল হকও জানিয়েছেন, গণপূর্ত অধিদপ্তর নিজস্ব ক্ষমতা ও দায়িত্বের আওতায় প্রকল্প পরিচালনা করে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য অবকাঠামো প্রকল্প। তাই দরপত্র, কাজের পরিমাণ, বিল পরিশোধ ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
পাবনা মেডিকেল প্রকল্পে ২৭ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন
পাবনা মেডিকেল প্রকল্পে ২৭ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন
পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ২৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বিল ও দরপত্র নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবির, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাউদুদুর রহমান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মালিক শাহাদাত হোসেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও স্বাধীন তদন্তের ফলাফল যাচাই করা প্রয়োজন। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথি ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্মাণাধীন হাসপাতাল ভবনের কিছু কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ‘অবশিষ্ট কাজ’ ও অভ্যন্তরীণ সজ্জার নামে একাধিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। এসব দরপত্রের মাধ্যমে মূল প্রকল্পের কাজ পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিল পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেসমেন্টসহ ১০ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণে প্রায় ২৯৯ কোটি ৬৪ লাখ ৭২ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। একই বছরের জুনে সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়। প্রকল্পের
কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার কথা। অভিযোগে বলা হয়েছে, মূল প্রকল্পের কাজ চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে অতিরিক্ত কয়েকটি দরপত্র আহ্বান ও খোলা হয়। দরপত্রগুলো ভাগ করে অনুমোদন, প্রয়োজনীয় পূর্বানুমোদন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষর জাল করে বিভাগীয় প্রস্তাব তৈরির অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের দেওয়া তালিকায় কাঁচের নির্মাণকাজ, অতিরিক্ত আরসিসি, ইটের দেয়াল, ওভারহেড জলাধার, ভিনাইল ফ্লোরিং, ইপোক্সি পেইন্ট ও মার্বেল পাথরের কাজসহ সাতটি প্যাকেজের উল্লেখ রয়েছে। এসব কাজের বিপরীতে বরাদ্দ বা উত্তোলিত অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত সব অর্থ বাস্তবে পরিশোধিত হয়েছে কি না এবং কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এ বিষয়ে এসএ এন্টারপ্রাইজের মালিক দ্বীন ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি শাহাদাত হোসেনকে তাঁর প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে কাজের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে
তিনি অবগত নন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁদের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের পপুলেশন প্রজেক্ট সেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম সোহরাওয়ার্দী জানিয়েছেন, বিষয়টি আগে তাঁর নজরে ছিল না; তিনি তা খতিয়ে দেখবেন। প্রকল্প পরিচালক ডা. আমজাদুল হকও জানিয়েছেন, গণপূর্ত অধিদপ্তর নিজস্ব ক্ষমতা ও দায়িত্বের আওতায় প্রকল্প পরিচালনা করে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য অবকাঠামো প্রকল্প। তাই দরপত্র, কাজের পরিমাণ, বিল পরিশোধ ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত