রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
আইন আদালত রংপুর রেঞ্জে ১ মাসে ৪,০২৫টি মামলা, জরিমানা ১ কোটি ২৭ লাখ

রংপুর রেঞ্জে ১ মাসে ৪,০২৫টি মামলা, জরিমানা ১ কোটি ২৭ লাখ

ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে রংপুর বিভাগের আট জেলায় গত আগস্ট মাসে ৪ হাজার ২৫টি মামলা করেছে পুলিশ। 

এসব মামলায় মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৯৬ হাজার ৪২৫ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জরিমানা আদায় ছাড়াও গত আগস্ট মাসে রংপুর রেঞ্জে ট্রাফিক আইনভঙ্গ ও বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় ৭২০টি যানবাহন আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি বাস, ১৯টি ট্রাক, ৪টি মাইক্রোবাস এবং ৬৯৩টি মোটরসাইকেল রয়েছে।

আজ রোববার সকালে বিভাগীয় সদর দপ্তরে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় উপস্থিত ছিলেন, রংপুর বিভাগের আট জেলার পুলিশ সুপারগণসহ রেঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ সভায় মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, বিক্রেতা ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেয়া হয়। 

একই সঙ্গে জানানো হয়, আট জেলায় এক মাসে সর্বমোট ১ হাজার ৯২৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে চুরির মামলা ১০৫টি। মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে আগস্টে বিভাগে মোট ৪৯৭টি মাদক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ৬৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া, মাদকবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে ২২২.৫ কেজি গাঁজা, ১২১ বোতল ফেনসিডিল, ২১ হাজার ৫১৪ পিস ইয়াবা এবং ২৭ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সময় সার সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়েও বিশেষ গুরুত্বারোপ করে ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, রংপুর বিভাগের কোনো এলাকায় অবৈধভাবে সার মজুদ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মূল্য কারসাজি কিংবা অবৈধভাবে সার ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সভায় সার মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা কোনো ধরনের কারসাজি বরদাশত করা হবে না জানিয়ে অবৈধ মজুত ও কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

তিনি প্রত্যেক জেলার পুলিশ সুপারকে সারের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের সার্বক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

রংপুর রেঞ্জ পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়।

সভা শেষে গত আগস্ট মাসের সামগ্রিক কর্মমূল্যায়নের ভিত্তিতে ‘শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার’ হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেনকে পুরস্কার ও স্বীকৃতি স্মারক প্রদান করা হয়। এছাড়া রেঞ্জ ডিআইজি সকল পুলিশ সদস্যকে সততার সহিত কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। 

রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ ফ্যাসিবাদী কায়দা থেকে সকলকে বের হওয়ার আহ্বান জানান। পুলিশ হবে মানবিক এবং মানুষের কল্যাণে, পুলিশের দ্বারা যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হয় এমনটাও এ সভায় বলা হয়।

খুঁজুন