বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্ট হাউসে উন্মোচিত হলো শরণার্থীদের নিজস্ব নীতি-রূপরেখা • ৩০০ টাকার সেই টিকিট ব্ল্যাকে বিক্রি হচ্ছে ১,০০০ টাকায়! • সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলেছে সিটি করপোরেশন • ভেনিসে ‘ইসলামে নারী’: শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত • বনানী বিদ্যানিকেতনে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা • সিডনিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘ মহালয়া ও মেলা ২০২৬’, • সরকারের ভেতরের প্রশাসনিক দুর্বলতা • আপনার সন্তান কম মেধাবী, নাকি পৃথিবীটাকেই ঝাপসা দেখছে? • নারায়ণগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে তিতাস কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা • রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে বদলে যাবে
জাতীয় তলিয়ে যেতে পারে দেশের ৪ জেলার নিম্নাঞ্চল

তলিয়ে যেতে পারে দেশের ৪ জেলার নিম্নাঞ্চল

দেশের ৪ জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের কিছু অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

 এক পূর্বাভাসে জানানো হয়, ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম রাজ্যে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উজানের এই বৃষ্টির কারণে দেশের একাধিক নদ-নদীর পানির স্তর বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর বিভাগের তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে বাড়ছে। ধরলা নদীর পানি আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও সেটির পানিও আগামী দিনে বাড়তে পারে। ফলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। যমুনা নদীর পানি এখনও স্থিতিশীল থাকলেও আগামী ৪ দিনের মধ্যে তা বাড়তে পারে। তবে এই নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে এবং সামনের কয়েক দিনও সেভাবেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানিও ধীরে ধীরে বাড়ছে। আগামী ৪ দিন এই বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এই নদীগুলোর পানিও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

সিলেট অঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ছে। আগামী তিন দিন এই নদীগুলোর পানির স্তর আরও বাড়তে পারে। এছাড়া রংপুর অঞ্চলের আত্রাই, করতোয়া, পুনর্ভবা ও ঘাঘট নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতেও তা বাড়তে পারে।

এদিকে টাঙ্গন নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে সার্বিকভাবে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি নদীতে পানির স্তর বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একইসঙ্গে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানিও বাড়ছে। এই নদীগুলোর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টা বাড়তে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাঙ্গু নদীর পানিও বাড়ছে। তবে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানি সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও আগামী ৩ দিন এগুলোর পানির স্তর আবারও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এবং উজানের ঢল বাড়লে প্লাবনের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোর মানুষদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

খুঁজুন