বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
খাদ্য পরিদর্শক মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ • অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্ট হাউসে উন্মোচিত হলো শরণার্থীদের নিজস্ব নীতি-রূপরেখা • ৩০০ টাকার সেই টিকিট ব্ল্যাকে বিক্রি হচ্ছে ১,০০০ টাকায়! • সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলেছে সিটি করপোরেশন • ভেনিসে ‘ইসলামে নারী’: শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত • বনানী বিদ্যানিকেতনে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা • সিডনিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘ মহালয়া ও মেলা ২০২৬’, • সরকারের ভেতরের প্রশাসনিক দুর্বলতা • আপনার সন্তান কম মেধাবী, নাকি পৃথিবীটাকেই ঝাপসা দেখছে? • নারায়ণগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে তিতাস কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা
জাতীয় সহনীয় মাত্রার ২০ গুণ বেশি বায়ুদূষণ বাংলাদেশে

সহনীয় মাত্রার ২০ গুণ বেশি বায়ুদূষণ বাংলাদেশে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানের চেয়ে ২০ গুণ বেশি বায়ু দূষণের মধ্যে বাস করছে বাংলাদেশের মানুষ। গত ৮ বছরে মাত্র ৪৯ দিন নিরাপদ বায়ুতে শ্বাস নিতে পেরেছে সবাই। তবে এ বছর নভেম্বরে একদিনও মানুষের জন্য নিরাপদ বায়ু ছিল না। ফলে বেড়েছে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তের সংখ্যা।

নভেম্বর মাস থেকেই প্রকৃতিতে আসে শীত। আর বাতাসে আসতে থাকে দূষিত কণা। শীতকালে প্রায় প্রতিদিনই অস্বাস্থ্যকর ও বিপৎজনক মাত্রায় দূষিত থাকে দেশের বাতাস।

বায়ুদূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের গবেষণা অনুযায়ী, শীতকালে বা শুষ্ক মৌসুমের নভেম্বর থেকে মার্চ- এই ৫ মাসে বায়ু দূষণ হয়ে থাকে ৫৭ শতাংশ। গবেষণা বলছে, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকার মানুষ মাত্র ৪৯ দিন নিরাপদ বাতাসে শ্বাস নিতে পেরেছে। চলতি বছরের নভেম্বরে ঢাকার মানুষ একদিনও স্বাস্থ্যকর বাতাসে শ্বাস নিতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় দূষণের জন্য নির্মাণ কাজ, ইটভাটা ও শিল্পকারখানা ধোঁয়াই প্রধানত দায়ী। এছাড়া যানবাহন, আন্তঃদেশীয় বায়ুদূষণের দায়ও কম নয়।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের মান মাত্রা বার্ষিক যেখানে ৩৫ মাইক্রোগ্রাম ডব্লিউএইচও এর মান মাত্রা ৫ মাইক্রো গ্রাম। অর্থাৎ আমাদের এখানে ৩ গুণ বেশি বার্ষিক গড়ে সেটি মূলত ডব্লিউএইচও এর মানমাত্রা অনুযায়ী ২০ থেকে ২১ গুণ বেশি বায়ু দূষণের ভেতরে আমরা বাস করছি। ঢাক শহরের যেই এলাকায় যখন নির্মাণ কাজ হয় ওই এলাকাটিই তখন বায়ু দূষণ প্রবণ হয়ে যায়।

বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণা বলছে, ২০১৯ সালে বায়ু দূষণজনিত রোগে বাংলাদেশে মারা গেছে, ৭৮ হাজার থেকে ৮৮ হাজার মানুষ। সে বছর শ্বাসতন্ত্রজনিত নানা জটিলতায় রোগে ভুগেছেন ২ লাখ। বেশি মানুষ।

আশঙ্কার কথা হচ্ছে, শুধু ঢাকাই নয়, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, খুলনা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলাতেও বেড়েছে বায়ুদূষণ। এতে হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য।

শক্তি ফাউন্ডেশনের ক্লাইমেট চেঞ্জ এর স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার লাবিবা রহমান বলেন, সবার আগে আমাদের ফুসফুস আক্রান্ত হয়। যে কারণে তরুণদের মধ্যে এত হাই নিউমোনিয়া দেখা দিচ্ছে।

এমনিতেই দেশে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হয় সরকারকে। এ অবস্থায় বায়ু দূষণজনিত রোগ যে বাড়তি চাপ তৈরি করবে তা সামাল দেয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। তাই দূষণ কমাতে অতিসত্ত্বর কার্যকর ব্যবস্থা চান বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষরা।

খুঁজুন