Logo
শিরোনাম

রাজধানীতে জমে উঠছে কোরবানির পশুর হাট

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

সদরুল আইন:

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র ৩ দিন বাকি। রাজধানীর পশুর হাটগুলো ধীরে ধীরে জমে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত চলবে পশু বিক্রি।

গত বছর মাঝারি সাইজের গরুর বেচাকেনা বেশি ছিল। তবে এবার ক্রেতা মানেই নজর ছোট গরুতে। তবে খাসি ছোট-বড় সব সাইজেই বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, শুক্রবার থেকে কেনাবেচা ব্যাপক জমবে বলে বিক্রেতারা জানান। তারা বলছেন, এবার প্রতিটি খামারেই অনেক গরু রয়েছে। তাদের ধারণা চাহিদার চেয়ে এবার গরু বেশি।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন)  ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও  ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার হাটগুলোতে দেখা যায়, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে গরু-ছাগল আসছে। 

তবে বেচাকেনা তেমন শুরু না হলেও ক্রেতাদের আনাগোনা রয়েছে। ক্রেতাদের অনেককে দর কষাকষি করতেও দেখা গেছে।

‘বিক্রেতারা আকাশচুম্বী দাম হাঁকাচ্ছেন। যার যেমন ইচ্ছে দাম চাচ্ছেন। ৮০ হাজার টাকার কমে কোনো গরু মিলছে না।’ ক্রেতারা এমন অভিযোগ করেছেন।

গাবতলী হাটে এসে এক ক্রেতা বলেন, ব্যাপারীরা গরুর দাম বেশি চাচ্ছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাটে আছি। বাধ্য হয়ে দেড় লাখ টাকার গরু এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হলো।

ব্যাপারীরা বলছেন, গরুর খাবারের দাম সম্প্রতি বেশ বেড়েছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে একটা গরু  ঢাকায় আনতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচও হয়। তাই গরুর দাম একটু বেশি। গরুর দামের বিষয়ে ক্রেতাদের কোনো ধারণা নেই।

তারা বলেন, শুরু থেকেই ক্রেতার আগ্রহ দেখছি ছোট গরুতে। আজ অনেকে দেখে দাম-দর করে যাচ্ছেন। কাল তারাই কিনে নিয়ে যাবেন। কয়েকজন তো আগাম অর্ডার দিয়ে গেলেন।

গাবতলী হাটের ছাগলের শেডে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার ছাগলে ভরে গেছে হাট। দাম-দরে হরহামেশা বিক্রি হচ্ছে খাসি। বিশ্বাস স্থাপনের জন্য খাসির দাঁত বের করেও দেখাচ্ছে বিক্রেতারা। এবার ৬ হাজার টাকায়ও খাসি মিলছে।

এদিকে, এ বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর বিশাল চাহিদা মেটাতে দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক গবাদিপশু রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশে এক কোটি ১০ লাখ কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। 

এই চাহিদার তুলনায় দেশে এখন বাড়তি প্রায় আট লাখ পশু অর্থাৎ দেশে এখন প্রায় এক কোটি ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৩টি পশু প্রস্তুত আছে।


আরও খবর



সাজেকে আটকা পড়েছে ৭ শতাধিক পর্যটক

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

ভারী বৃষ্টিপাতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বাঘাইহাট-সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল। এতে সাজেকে থাকা শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। এ ছাড়া রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের ওপর পানি উঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

গত কয়েক দিনে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে রাঙামাটিতে বড় ধরনের কোনো পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেনি। তবে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাঘাইছড়ির অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া বাঘাইহাট-সাজেক সড়কের মাচলং এলাকায় পানি উঠায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুবর্ণ দেব বর্মণ জানান, বাঘাইহাট-সাজেক সড়কের মাচলং এলাকায় পানি উঠে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকে ৬০০ থেকে ৭০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। 

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার জানান, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কাচলং নদীর পানি বেড়ে বাঘাইছড়ি সদরের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বাঘাইহাট-সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকে পর্যটকরা আটকা পড়েছেন। পানি কমে না যাওয়া পর্যন্ত কিছু করার নেই। 

এদিকে, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সোমবার রাতে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের সাপছড়ির ফুরমোন এলাকায় পাহাড় ধসে পড়ে। খবর পেয়ে সকালের দিকে সড়ক ও জনপথের কর্মীরা সড়ক থেকে মাটি ও গাছ সরিয়ে দিয়েছে। সকাল ৯টা থেকে যান চলাচল শুরু হয়েছে। এ ছাড়া রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের হেগেঙলছড়ি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে সিএনজি চলাচল করছে। 

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুবজ চাকমা জানান, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের ওপর মাটি ধসে পড়ার খবর পেয়ে ৯টার মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মীরা মাটি সরিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে সিএনজি চলাচল করলেও ভারী যান বন্ধ রয়েছে। 


আরও খবর



নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নতুন করে গণবিক্ষোভ

প্রকাশিত:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গাজায় যুদ্ধ পরিচালনা নীতির বিরুদ্ধে হাজার হাজার ইসরাইলি নাগরিক সোমবার জেরুসালেমে বিক্ষোভ জানিয়েছে।

ইসরাইলি পার্লামেন্টে নেসেটের সামনে থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়ে পরবর্তীতে তা নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত বাসভবন পর্যন্ত যায়।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকার যেন হামাসের সাথে দরকষাকষি করে তাদের হাতে আটক বাকি পণবন্দীদের মুক্তির উদ্যোগ নেয় এবং আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের আয়োজন করে।

গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ইসরাইলি নাগরিকদের হত্যা ও পণবন্দী করে

ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী সংগঠন হামাস।

 

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ মূল জনস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদা করে পুলিশি ব্যারিকেড অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে পিছু হটতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।

নেতানিয়াহু যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এই বিক্ষোভ শুরু হয়। গত সপ্তাহে মধ্যপন্থী দুই সাবেক জেনারেল বেনি গ্যান্টজ ও গাদি এইসেনকট মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার পর নেতানিয়াহুর এই পদক্ষেপ প্রত্যাশিতই ছিল। নেতানিয়াহুর সাথে যুদ্ধ পরিচালনার প্রক্রিয়া নিয়ে মতভেদের জেরে এই দুই নেতা পদত্যাগ করেন।

 

গ্যান্টজ অক্টোবর মাসে হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শুরুর দিকে নেতানিয়াহুর জোট সরকারে যোগ দেন এবং যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা গঠনের দাবি জানান।

হোয়াইট হাউস সোমবার জানিয়েছে, মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়ার বিষয়টি ইসরাইলি সরকারের অভ্যন্তরীণ ও নিজস্ব পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুর সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, ইসরাইলি সরকারে কে থাকবেন বা থাকবেন না, সেটা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয় নয়।

মিলারকে জিজ্ঞাসা করা হয় ইসরাইলে সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কট্টর ডানপন্থীদের মতামত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন কিনা। এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের বিবেচনায় যেসব নীতিমালা শুধু ফিলিস্তিনি জনগণ না, ইসরাইলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অকার্যকর, সেগুলোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন তার দ্বিমতের কথা প্রকাশ্যে জানাবে।

 

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে জানিয়েছিল, যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ফলপ্রসূ।
সূত্র : ভয়েস অফ আমেরিকার


আরও খবর



বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image



নিজস্ব প্রতিনিধি:


তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানো হয়েছে। গতমাসের তুলনায় চলতি মাসে (জুলাই) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৬৬ টাকা করা হয়েছে।



আজ মঙ্গলবার (২ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান মো. নূরুল আমিন নতুন এ দাম ঘোষণা করেন। আজ সন্ধ্যা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে বলেও জানিয়েছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান।



চেয়ারম্যান আরও বলেন, ৫.৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৬২৭ টাকা, ১২.৫ কেজির ১ হাজার ৪২৩ টাকা, ১৫ কেজির ১ হাজার ৭০৮ টাকা, ১৬ কেজির ১ হাজার ৮২২ টাকা, ১৮ কেজির ২ হাজার ৪৯ টাকা, ২০ কেজির ২ হাজার ২৭৭ টাকা, ২২ কেজির ২ হাজার ৫০৫ টাকা, ২৫ কেজির ২ হাজার ৮৪৭ টাকা, ৩০ কেজির ৩ হাজার ৪১৬ টাকা, ৩৩ কেজির ৩ হাজার ৭৫৭ টাকা, ৩৫ কেজির ৩ হাজার ৯৮৫ টাকা এবং ৪৫ কেজির এলপিজির দাম ৫ হাজার ১২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।



সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ে মূসকসহ মূল্য প্রতি কেজি ১১০ দশমিক শূত্য ৩ টাকা।



 গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ে মূসকসহ মূল্য প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ২৪৪৫ টাকায় বা প্রতি ঘনমিটার ২৪৪ দশমিক ৫০ টাকায় সমন্বয় করা হয়।


আরও খবর



সন্দেহভাজন সরকারি কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image



আবুল খায়ের:


তালিকা তৈরি হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তাদের

ভোল পালটে, পরিচয় গোপন করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ঘাপটি মেরে বসেছে রাজাকার, আলবদর ও আলসামসের কর্মকর্তাদের সন্তান-স্বজনরা।



 ছাত্র অবস্থায় শিবির ও ছাত্রদল করেছেন, এমন অনেকেই এখন বড় আওয়ামী লীগার। আবার অনেকে পিতার নামে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট বানিয়ে নিয়ে সরকারের কাছ থেকে সর্বাধিক সুযোগ-সুবিধাও নিয়েছেন। 



তারা একদিকে অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন করছেন, অন্যদিকে দেশে-বিদেশে তথ্য ফাঁস করছেন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এই কাজ করছেন অনেকে। তারা পদোন্নতি ও সুযোগসুবিধা পাচ্ছেন। তথ্য গোপন করে সুযোগসুবিধা গ্রহণকারী সরকারি কর্মকর্তাদের তালিকা করছেন একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। 



এছাড়া মন্ত্রণালয় থেকে অধিদপ্তর এবং মাঠ পর্যায় পর্যন্ত স্ব স্ব প্রশাসন এসব সুবিধাভোগী রাজাকারের পোষ্যদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ‘ছাগলকাণ্ডের’ মতিউর সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে।



ছাগলকাণ্ডের পর ড. মতিউর রহমানের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ দেশে-বিদেশে থাকার তথ্য বেরিয়ে আসে। মতিউর এনবিআরে থাকা অবস্থায় হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছেন। অনেক দলীয় নেতা, বড় বড় ব্যবসায়ী, আমলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য, স্থলবন্দর-বিমানবন্দর দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালানকারী ছাড়াও যারা হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ মালামাল এনেছেন, তারা মতিউর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। 



হাজার হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়া ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হয়েছেন মতিউরের দ্বারা। তাই তাকে বাঁচানোর জন্য অনেকেই মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ইতিমধ্যে সুবিধাভোগীদের দ্বারা ‘মতিউর রক্ষা কমিটি’ গঠিত হয়ে গেছে। 



কারণ মতিউর রক্ষা না পেলে অনেকেই ফেঁসে যাবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন মতিউর। এই বিভাগের ছাত্ররা সরকারের অর্থনৈতিক বিভাগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এই গ্রুপটাও মতিউরকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করছে। ছাত্রাবস্থায় মতিউর ছাত্র শিবির করতেন, পরবর্তীতে ভোল্ট পালটিয়ে আওয়ামী লীগার হয়ে যান। 



এভাবে বিরোধী মতাদর্শীরা নব্য আওয়ামী লীগার সেজে অর্থ-বিত্তের মালিক বনে যাচ্ছেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে অসংখ্য মতিউর রয়েছেন। রাজাকার, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পোষ্যসহ দলবাজ, হাইব্রিড ও বিতর্কিতরা এখন নজরদারিতে রয়েছেন। 


জানা গেছে, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী থেকে হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন ডা. দিলীপ কুমার রায়। তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। 



এর মধ্যে আওয়ামী লীগের একটি আলোচনাসভায় দলের এক শীর্ষ নেতার বক্তব্যের সময় তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ডা. দিলীপ কুমার রায়কে। এটি আরও বেশি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে দলের মধ্যে এবং দলের বাইরে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সরকারের অর্জন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। একজন দুর্নীতিবাজের জন্য এই অর্জন ম্লান হবে তা কারো কাম্য নয়।



রাজাকার, আলবদর ও আলসামসের কর্মকর্তাদের সন্তান-স্বজনদের ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, তারা সরকারের জন্য বিপজ্জনক। তাদের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে।



 রাজাকারের সন্তান-স্বজনদের কারণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সৎ নিষ্ঠাবান কর্মকর্তারা কাজ করতে পারছেন না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে রাজাকারের সন্তান-স্বজনদের দাপট বেশি। একজন পিয়ন পর্যন্ত কোটি কোটি টাকার মালিক। 



অবৈধ অর্থ-সম্পদের মালিক বনে যাওয়া অনেক আমলা রয়েছেন। তাদের তালিকা হয়েছে। আমলাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২৫২ জন কর্মকর্তা বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করেছেন, তাদেরও তালিকা করা হয়েছে। 



এই তথ্য সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে রাজাকার পরিবারের সন্তান-স্বজনদের দাপটে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও ত্যাগী নেতার পরিবারের সন্তানরা প্রশাসন এবং দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। রাজাকার পরিবারের সন্তান-স্বজনরা অনেক নেতাকে প্রতি মাসে উৎকোচ দিয়ে টিকে আছে। তথ্য পাচার করার কারণে ইতিমধ্যে একজন পুলিশের চাকরি চলে গেছে।


প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সরকারের ভেতরে থেকে রাজাকার-আলবদরের পোষ্যরা সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র লিপ্ত। কেউ কেউ এমপি হয়েছেন। সর্বাধিক সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন। 




আরও খবর



পিএসসির তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডেস ডেস্কঃ

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) পরীক্ষাসহ গত ১২ বছরে ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (বিপিএসসি) তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (৮ জুলাই) রাতে সিআইডির পক্ষ থেকে রাজধানীর পল্টন থানায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে এই মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আসামির সংখ্যা অর্ধ শতাধিক দেখানো হয়েছে। আর গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ১৭ জনকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আজাদ রহমান বলেন,  প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে ও পলাতকদের গ্রেপ্তারে পল্টন থানায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলায় ১৭ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের রিমান্ড চাওয়া হবে।

বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাঁড়াশি অভিযানে নামে সিআইডি। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন উপ-পরিচালক মো. আবু জাফর, উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক এস এম আলমগীর কবির, সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র রায়, চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও অফিস সহায়ক খলিলুর রহমান। বিপিএসসির কোনো নিয়োগ পরীক্ষা এলেই প্রশ্নফাঁস করে অর্থ লোপাটে মেতে উঠতো সংঘবদ্ধ চক্রটি।

সিআইডি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন পিএসসি’র উপ-পরিচালক মো. আবু জাফর ও মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর কবির, অফিস সহায়ক খলিলুর রহমান ও অফিস সহায়ক (ডিসপাস) সাজেদুল ইসলাম।

এছাড়া আছেন- সাবেক সেনা সদস্য নোমান সিদ্দিকী, ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের রাজনীতি করা এবং বর্তমানে মিরপুরের ব্যবসায়ী আবু সোলায়মান মো. সোহেল, অডিটর প্রিয়নাথ রায়, ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী শাহাদাত হোসেন, ঢাকার ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত মো. মামুনুর রশীদ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মেডিকেল টেকনিশিয়ান মো. নিয়ামুন হাসান, ব্যবসায়ী সহোদর সাখাওয়াত হোসেন ও সায়েম হোসেন ও বেকার যুবক লিটন সরকার।

প্রকাশিত সংবাদে বিসিএসের প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচনায় আসেন সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী ও তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম। 

সেই বাবা-ছেলেকেও গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। অন্যদিকে সংগঠনের নীতি ও নৈতিকতা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে সোহানুর রহমান সিয়ামকে।


আরও খবর