শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
শেখ হাসিনার ফেরা দেশের রাজনীতিতে কি নতুন ঝড়ের সূচনা হবে? • বাস্তাবতাকে স্বীকার করার সৎ সাহস রাজনীতিতে বিরল • সিঙ্গাপুর থেকে গজারিয়া: এক মুগ্ধতার গল্প • গজারিয়ায় মেলা বন্ধের দাবিতে উলামায়ে কেরামের সাংবাদিক সম্মেলন • পেনাল্টি শুটআউটে চেলসিকে হারাল লিভারপুল, অল্পের জন্য রক্ষা সিটির • বিএমইটি পরিচালক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ, তদন্ত দাবি • সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে আলমগীর ইসলামের পদত্যাগ, • স্পেনে ফের ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৮ জনের মৃত্যু • পূর্ণাঙ্গ মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন পেল অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার, • জয় বাংলা বলবো ১০০ বার বলবো
মতামত শেখ হাসিনার ফেরা দেশের রাজনীতিতে কি নতুন ঝড়ের সূচনা হবে?

শেখ হাসিনার ফেরা দেশের রাজনীতিতে কি নতুন ঝড়ের সূচনা হবে?

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশের বিষয়টি শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, গণতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হয়ে উঠতে পারে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ক্ষমতার বাইরে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক বিতর্ক চলমান। এমন পরিস্থিতিতে তিনি যদি সত্যিই দেশে ফিরে আসেন, তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।

দেশে ফিরলে প্রথম পরিস্থিতি কী হতে পারে?

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে, রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর সঙ্গে কী আচরণ করবে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলা, আদালতের আদেশ এবং আইনি অবস্থার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে অথবা আদালতের সামনে হাজির হতে হতে পারে।

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির বিচার হওয়া উচিত আদালতের মাধ্যমে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে নয়। অভিযোগের সত্যতা, প্রমাণ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাই হবে আইনের শাসনের প্রকৃত পরীক্ষা।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা দলটির নেতাকর্মীরা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে দলটি অতীতের ভুল, বিতর্ক ও অভিযোগের বিষয়ে কী অবস্থান নেয় তার ওপর। শুধু একজন নেত্রীর প্রত্যাবর্তন দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের জনসমর্থন পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।

দলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা, নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি নতুন অঙ্গীকার প্রদর্শন করা।

রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, বিক্ষোভ কিংবা সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো পক্ষের ওপর হামলা, প্রতিশোধ কিংবা রাজনৈতিক নিপীড়ন দেশের স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর হবে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন পরীক্ষা

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে ভারতের ভূমিকার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভারতে অবস্থান করে থাকলে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হওয়া উচিত নয়। দুই দেশের জনগণের স্বার্থ, বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে।

তিনি ফিরলেই কি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে?

এ প্রশ্নের উত্তর হলো, না। শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফিরে আসা সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়।

ক্ষমতায় ফিরতে হলে রাজনৈতিক বৈধতা, জনগণের সমর্থন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রত্যাবর্তন জনগণের ভোটের বিকল্প হতে পারে না।

বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

শেখ হাসিনা ফিরুন বা না ফিরুন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক সংঘাত, সহিংসতা, অবিশ্বাস ও বিভাজন থেকে দেশকে বের করে আনতে হলে সব রাজনৈতিক পক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

একদিকে অতীতের অন্যায় ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিচারবহির্ভূত আচরণ বন্ধ রাখতে হবে।

শেষ কথা: প্রত্যাবর্তন নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ডিসেম্বর প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। কেউ এটিকে আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা হিসেবে দেখবেন, কেউ আবার নতুন রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা করবেন।

কিন্তু বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোনো একক ব্যক্তি কিংবা একটি রাজনৈতিক দলের হাতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর আইনি অধিকার ও বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার ও দায়িত্বের প্রশ্নও আইনের আলোকে বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষ আর প্রতিহিংসার রাজনীতি চায় না। তারা চায় নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক স্বস্তি, গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার।

অতএব, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ঝড় তুলবে কি না, সেটি সময়ই বলে দেবে। কিন্তু সেই ঝড় যেন দেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত না করে, সেটিই হওয়া উচিত রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

খুঁজুন